রুপম আচার্য্য
আপডেট: ১৭:২৬, ১২ জানুয়ারি ২০২৬
লাল মাথা কুচি: বনভূমির রঙিন রহস্যময় পাখি
লাল মাথা কুচি। ছবি: খোকন থৌনাওজাম, পরিবেশকর্মী ও বার্ডফটোগ্রাফার।
সবুজ অরণ্যের নীরব ছায়ায় হঠাৎ চোখে পড়ে এক অপূর্ব রঙিন পাখি মাথায় আগুনরাঙা লাল, দেহে কালো ও ডানায় সূক্ষ্ম সাদা নকশা। এ যেন প্রকৃতির নিখুঁত শিল্পকর্ম রেড-হেডেড ট্রোগন, বাংলায় পরিচিত লাল মাথা কুচি নামে।
পরিচয় ও বৈজ্ঞানিক নাম
লাল মাথা কুচির বৈজ্ঞানিক নাম Harpactes erythrocephalus। এটি ট্রোগনিডি (Trogonidae) পরিবারের অন্তর্ভুক্ত একটি দুর্লভ ও সুন্দর বনজ পাখি।
শারীরিক গঠন ও বৈশিষ্ট্য
পুরুষ লাল মাথা কুচির মাথা ও গলা উজ্জ্বল লাল রঙের, বুক কালো এবং পেট গাঢ় লাল। ডানায় সাদা-কালো সূক্ষ্ম দাগ ও লম্বা লেজ এর সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে তোলে। স্ত্রী পাখিটির রঙ তুলনামূলকভাবে ম্লান—মাথা ও দেহে বাদামি-ধূসর ভাব, যা তাকে সহজেই পরিবেশের সঙ্গে মিশে থাকতে সাহায্য করে। গড় দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০–৩২ সেন্টিমিটার।
আবাসস্থল ও বিস্তৃতি
লাল মাথা কুচি সাধারণত চিরসবুজ ও আধা-চিরসবুজ পাহাড়ি বনাঞ্চলে বাস করে। বাংলাদেশে এটি প্রধানত সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি বনাঞ্চলে, বিশেষ করে লাউয়াছড়া, সাতছড়ি, রাজকান্দি ও পার্বত্য এলাকার গভীর বনে দেখা যায়। এছাড়া ভারত, নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এদের উপস্থিতি রয়েছে।
খাদ্যাভ্যাস
এই পাখি মূলত কীটভুক। গাছের ডালে বসে ধৈর্যের সঙ্গে অপেক্ষা করে এবং হঠাৎ ঝাঁপিয়ে পড়ে পোকামাকড়, শুঁয়োপোকা, মাকড়সা ধরে খায়। মাঝে মাঝে ছোট ফলও এদের খাদ্যতালিকায় থাকে।
স্বভাব ও আচরণ
লাল মাথা কুচি স্বভাবে অত্যন্ত শান্ত ও লাজুক। সাধারণত একাকী বা জোড়ায় চলাফেরা করে। মানুষের উপস্থিতি টের পেলেই দ্রুত গাছের আড়ালে লুকিয়ে পড়ে। এদের ডাক নরম ও সুরেলা, যা গভীর বনভূমিতে এক ধরনের মায়াবী আবেশ সৃষ্টি করে।
প্রজনন ও জীবনচক্র
প্রজনন মৌসুমে এরা গাছের কোটরে বা পচা কাণ্ডে বাসা বাঁধে। স্ত্রী পাখি সাধারণত ২–৩টি ডিম পাড়ে। ডিম ফোটানো ও ছানা লালন-পালনে উভয় পাখিই ভূমিকা রাখে।
সংরক্ষণ পরিস্থিতি
বিশ্বব্যাপী এ প্রজাতিকে এখনো বড় ধরনের বিপন্ন হিসেবে ধরা না হলেও বন উজাড়, আবাসস্থল ধ্বংস ও মানুষের হস্তক্ষেপের কারণে এদের সংখ্যা ক্রমেই কমছে। তাই লাল মাথা কুচির মতো বননির্ভর পাখি রক্ষায় প্রাকৃতিক বন সংরক্ষণ ও সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি।
প্রকৃতির বার্তা
লাল মাথা কুচি শুধু একটি পাখি নয়, এটি আমাদের বনজ জীববৈচিত্র্যের এক অনন্য প্রতীক। এই রঙিন পাখির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে প্রকৃতির প্রতি আমাদের দায়িত্বশীল আচরণই পারে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই সৌন্দর্য অটুট রাখতে।
ইএন/এসএইচএ
- কেএফসির মালিকের জীবন কাহিনী
- প্রজাপতি: আশ্চর্য এই প্রাণীর সবার ভাগ্যে মিলন জোটে না!
- বিশ্বের অদ্ভুত কিছু গাছের ছবি
- মা-শাশুড়িকে হারিয়েও করোনার যুদ্ধে পিছিয়ে যাননি এই চিকিৎসক
- যেখানে এক কাপ চা পুরো একটি পত্রিকার সমান!
- তিন রঙের পদ্মফুলের দেখা মিলবে এই বিলে
- সোনার দাম এত কেন : কোন দেশের সোনা ভালো?
- রহস্যময় গ্রামটি লাখো পাখির সুইসাইড স্পট
- ২০২৩ সালে পৃথিবীর শক্তিশালী ১০টি দেশ!
- বায়েজিদ বোস্তামি: মাতৃভক্তির এক অনন্য উদাহরণ

























