নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ২২:৫২, ১৮ মে ২০২১
সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের গলা চেপে ধরেন মারমুখী নারী
দৈনিক প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামকে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঁচ ঘণ্টা আটকে রেখে সোমবার রাতে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য সচিবের একান্ত সচিবের কক্ষ থেকে মোবাইল ফোনে ছবি তুলে এবং শরীরে লুকিয়ে নথিপত্রের তথ্য চুরি অভিযোগ আনা হয়। এর জেরে করা মামলায় বর্তমানে কারাগারে আছেন অনুসন্ধানী এই সাংবাদিক।
এদিকে রোজিনা ইসলামকে আটকে রাখার সময়ের কিছু ভিডিও ফুটেজ ও ছবি ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, চেয়ারে বসে থাকা রোজিনা ইসলামের গলায় হাত দিয়ে চেপে ধরেছেন এক নারী। অত্যন্ত রুঢ় এবং মারমুখী ভঙ্গিতে দেখা গেছে ওই নারীকে।
রোজিনার গলা চেপে ধরার সেই ছবি নিজের ফেসবুকে পোস্ট করে খ্যাতিমান সাংবাদিক আনিস আলমগীর লিখেছেন, ‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এই কর্মকর্তা শুধু রোজিনা ইসলামের নয়, সাংবাদিকতার গলা চিপতে চাচ্ছে। কিন্তু গলা চিপে কি ওরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আমলাদের ডাকাতি আড়াল করতে পারবে?’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতিআরা নাসরিন লিখেছেন, ‘ঘুরে দাঁড়ানোর বিকল্প নেই। রোজিনা আমাদের স্বর। আমাদেরই গলা চেপে ধরা।’
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মুন্নী সাহা তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘কার গলা চাপলেন??? মনে রাখুন। রোজিনারা একা নন... গলা চাপলেও ভালো সাংবাদিকতা গলা ছাড়ে। আরো জোরে।’
ছবিটি পোস্ট করে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক জ.ই. মামুন তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের একজন অতিরিক্ত সচিব সচিবালয়ে সাংবাদিক রোজিনার গলা টিপে ধরেন। এর বিচার চাই, এই মহিলার তাৎক্ষণিক অপসারণ চাই।’
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক তপন চক্রবর্তী লিখেছেন, ‘সিনিয়র সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে কার নির্দেশে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রেখে কেন নির্যাতন, হেনস্তা করা হলো? ওই আমলা মহিলাসহ সকলকে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনতে হবে। কেন স্বাস্থ্য সচিব সাংবাদিকদের সঙ্গে দেখা করতে চাইলেন না, তারও তদন্ত করা জরুরি।’
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মানস ঘোষ এই ঘটনায় হত্যাচেষ্টা মামলারও পরামর্শ দেন। তিনি তার ফেসবুক পোস্টে বলেন, ‘অন্যায়ের প্রতিবাদের পাশাপাশি রোজিনা ইসলামকে হত্যাচেষ্টার মামলা হোক। #freerozina।’
জানা গেছে, বিকেল ৩টায় রোজিনাকে আটক করার পর কেড়ে নেয়া হয় তার মোবাইল ফোন। সচিবালয়ের ৩ নম্বর ভবনের চতুর্থ তলার ৩৩৯ নম্বর কক্ষে সচিবের দফতরের কর্মকর্তারা প্রথমে তাকে আটকে রাখেন। পরে সচিবালয়ের দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা সেখানে আসেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে ওই কক্ষ থেকে রোজিনাকে নিয়ে যায় শাহবাগ থানা পুলিশ।
পরে রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৩৭৯ ও ৪১১ ধারায় চুরি এবং ১৯২৩ সালের ‘অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের’ ৩ ও ৫ ধারায় গুপ্তচরবৃত্তি ও রাষ্ট্রীয় গোপন নথি নিজের দখলে রাখার অভিযোগ আনা হয়। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব শিব্বির আহমেদ ওসমানী বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
এজাহারে বলা হয়েছে— রোজিনা যেসব নথির ‘ছবি তুলেছেন’, তার মধ্যে ‘টিকা আমদানি’ সংক্রান্ত কাগজপত্রও ছিল।
এদিকে মঙ্গলবার রোজিনা ইসলামকে আদালতে নেয়া হয়। এসময় রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করেন আদালত।
ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসিমের আদালত শুনানি শেষে রিমান্ড নামঞ্জুর করে প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আইনিউজ/এসডিপি
সংশ্লিষ্ট খবর
সচিবালয়ে পাঁচ ঘণ্টা আটকে রেখে সাংবাদিককে থানায় হস্তান্তর
অনুসন্ধানী সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন
অনুসন্ধানী সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের রিমান্ড আবেদন নাকচ
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিং বয়কট করলেন সাংবাদিকরা
‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের রিপোর্ট করায় আমার সঙ্গে অন্যায় হচ্ছে’
সাংবাদিক রোজিনাকে হেনস্তা: ক্রীড়া সাংবাদিকদের প্রতিবাদ
সাংবাদিক রোজিনাকে কারাবিধি অনুযায়ী চিকিৎসা দেয়ার নির্দেশ
সাংবাদিক রোজিনার জামিন না হওয়া পর্যন্ত স্বাস্থ্যের ব্রিফিং বর্জন
‘সাংবাদিককে হেনস্তা করে দেশের ভাবমূর্তি অনেক বেশি ক্ষুণ্ন হয়েছে’
সাংবাদিক রোজিনাকে হেনস্তার প্রতিবাদে ১১ বিশিষ্ট নাগরিকের বিবৃতি
রোজিনার বিরুদ্ধে যেসব নথি চুরির অভিযোগ, জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সাংবাদিক রোজিনাকে হেনস্তা: স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি
- বেইলি রোডে আগুন : ৩ জন আটক
- এই নৌকা নূহ নবীর নৌকা: সিলেটে প্রধানমন্ত্রী
- 'জাতীয় মুক্তি মঞ্চ' গঠনের ঘোষণা
- কাল থেকে যেসব শাখায় পাওয়া যাবে নতুন টাকার নোট
- এক বছরেই শক্তি, ক্ষিপ্রতা জৌলুস হারিয়ে 'হীরা' এখন বৃদ্ধ মৃত্যুপথযাত্রী
- ওয়াহিদ সরদার: গাছ বাঁচাতে লড়ে যাওয়া এক সৈনিক
- ভারতবর্ষে মুসলিম শাসনের ইতিকথা (প্রথম পর্ব)
- এবার ভাইরাস বিরোধী মাস্ক বানিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিলো বাংলাদেশ
- মায়েরখাবারের জন্য ভিক্ষা করছে শিশু
- ২৫ কেজি স্বর্ণ বিক্রি করল বাংলাদেশ ব্যাংক





















