Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,   ফাল্গুন ৫ ১৪৩২

হেলাল আহমেদ, আই নিউজ

প্রকাশিত: ১৫:৪৯, ১৮ জুন ২০২৩
আপডেট: ১৬:০৪, ১৮ জুন ২০২৩

ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের পর এবার মায়ের মৃত্যু! 

মারা যাওয়া নবজাতকের মা মাহবুবা রহমান আঁখি। ছবি- সংগৃহীত

মারা যাওয়া নবজাতকের মা মাহবুবা রহমান আঁখি। ছবি- সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকার গ্রীণ রোডস্থ সেন্ট্রাল হাসপাতালে ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যুর পর নবজাতকের মাও মারা গেছেন বলে জানা গেছে। রোববার (১৮ জুন) দুপুর ২টার দিকে ল্যাব এইড হাসাপাতালে মারা যান মাহবুবা রহমান আঁখি নামের ওই মা। 

শনিবার (১৭ জুন) আঁখির স্বামী ইয়াকুব আলী গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, শরীরিক অবস্থা আরও অবনতি হয়েছে। সারা শরীরে ফোসকা পড়ে গেছে। শরীর সম্পূর্ণ কালো হয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, ডায়ালাইসিসে কোনো কাজ হচ্ছে না। প্রস্রাব বন্ধ হয়ে গেছে। এখনো জ্ঞান ফেরেনি। স্বামীর এমন তথ্য দেয়ার একদিন পরই চলে গেলেন স্ত্রী মাহবুবা রহমান আঁখি।

আঁখির পারিবারিক সূত্র জানায়- গত শুক্রবার (৯ জুন) গর্ভবতী আঁখির বেদনা শুরু হলে সে রাতেই ডেলিভারির জন্য তাঁকে সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় ডা. সংযুক্তা সাহার অধীনে। কিন্তু ডেলিভারির সময় ডা. সংযুক্তা সাহার জায়গায় ডেলিভারি করেন ডা. মিলি। যিনি নবজাতকের ডেলিভারির সময় প্রসূতি আঁখির পেট কাটতে গিয়ে মূত্রনালি ও মলদ্বার কেটে ফেলেন। ফলে সঙ্গে সঙ্গে প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ হয়ে রোগী জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। 

পরে অজ্ঞান অবস্থায় সিজার করে বাচ্চা বের করার পর বাচ্চার হার্টবিট কমে গেলে তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়। কিছুক্ষণ পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নবজাতককে মৃত ঘোষণা করে।

এদিকে মূত্রনালি ও মলদ্বার কেটে ফেলার ফলে শারিরীক অবস্থার অবনতি হতে থাকে আঁখিরও। শনিবার (১৭ জুন) আঁখির স্বামী ইয়াকুব আলী গণমাধ্যমকে জানান, ডাক্তারের ভুল চিকিৎসার পর থেকে শরীরিক অবস্থা আরও অবনতি হয়েছে। সারা শরীরে ফোসকা পড়ে গেছে। শরীর সম্পূর্ণ কালো হয়ে গেছে। 

তিনি আরও জানান, ডায়ালাইসিসে কোনো কাজ হচ্ছে না। প্রস্রাব বন্ধ হয়ে গেছে। এখনো জ্ঞান ফেরেনি। এর একদিন পর আজ রোববার (১৮ জুন) মারা যান আঁখি। 

এদিকে এ ঘটনায় বুধবার (১৪ জুন) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ধানমন্ডি থানায় সেন্ট্রাল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগ এনে মামলা করেন ইয়াকুব আলী। 

শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার সিলেট

মামলার আসামিরা হলেন- সেন্ট্রাল হাসপাতালের ডা. মুনা সাহা (২৮), ডা. শাহজাদী মুস্তার্শিদা সুলতানা (৩৮), অধ্যাপক ডা. সংযুক্তা সাহার সহকারী মো. জমির, ডা. এহসান, ডা. মিলি ও সেন্ট্রাল হাসপাতালের ম্যানেজার পারভেজসহ আরও অজ্ঞাত ৫-৬ জন।

বুধবার এজাহার নামীয় দুই আসামি ডা. মুনা সাহা ও ডা. শাহজাদী মুস্তার্শিদা সুলতানাকে গ্রেপ্তার করে ধানমন্ডি থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বৃহস্পতিবার (১৫ জুন) আদালতে তুললে তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

আই নিউজ/এইচএ 

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়