ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৮ জুন ২০২২,   আষাঢ় ১৪ ১৪২৯

ইশরাত ইরিনা

প্রকাশিত: ২২:১৩, ৮ ডিসেম্বর ২০২১
আপডেট: ২২:৩০, ৮ ডিসেম্বর ২০২১

আলাল অথবা মুরাদ সবার বিচার হোক

আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা জনৈক 'আলাল' নামক লোকটি আমাদের সমাজের অনেকগুলো পুরুষ মানুষকে প্রতিনিধিত্ব করেন। তাই ব্যাপারটা আমার কাছে সামাজিক অবক্ষয়ের প্রতীক।

আপনি মনে করছেন, আপনার বিরোধী দলের নারীকে গালাগাল করলে খুব ভালো হবে। কিন্তু আপনি এটা বুঝতে পারছেননা, আপনি এসব কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য বা অসুস্থ পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যাবস্থাকে সমর্থন করে যে সমাজ ব্যবস্থার সৃষ্টি করছেন, সেই সিস্টেমে আপনার কন্যা সন্তান, বোন, মেয়ে, মা অথবা স্ত্রীকে ভোগান্তির স্বীকার হতে হবে, মানষিক বা শারীরিক নির্যাতনের স্বীকার হতে হবে। 

আমি শতভাগ নিশ্চিত, নারীদের বাইরে কাজ করতে গেলে এরকম ভাষার সাথে কমবেশি পরিচিত হতে হয়। যখন নারীদের কোনো ভাবেই আটকে রাখা যায়না বা থামানো যায় না, তখন অনেক পুরুষ মানুষ নারীদের চরিত্র নিয়ে কথা বলতে পছন্দ করেন। দিনের পর দিন এটাই হয়ে আসছে। আজ পরিচিত নারীদের নিয়ে কটাক্ষ করায়, বিষয়গুলো আমাদের সামনে আসছে। কিন্তু আপনি জানেন, কতশত নারী প্রতিদিন এসব ভাষার সাথে লড়াই করে নিজেদের এই সমাজে প্রতিষ্ঠিত করছেন? এসব খবর নারী ছাড়া অন্য কেউ জানে না। নারীকে অন্যায় এবং অনৈতিকভাবে আটকানো না গেলেই চরিত্র নিয়ে কথা বলেন হাজার হাজার পুরুষ। এটাই তাদের একমাত্র অস্ত্র। আর কিছু নেই। 

আমার আগের লেখায় যখন ডা. মুরাদের মুখের ভাষার প্রতিবাদ করেছিলাম, তখন যারা অনেকেই খুশি হয়েছিলেন, তাদের অনেকেই এখন এই পোস্টে খুশি হবেন না, কারণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা।

আপনি মনে করছেন, আপনার বিরোধী দলের নারীকে গালাগাল করলে খুব ভালো হবে। কিন্তু আপনি এটা বুঝতে পারছেননা, আপনি এসব কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য বা অসুস্থ পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যাবস্থাকে সমর্থন করে যে সমাজ ব্যবস্থার সৃষ্টি করছেন, সেই সিস্টেমে আপনার কন্যা সন্তান, বোন, মেয়ে, মা অথবা স্ত্রীকে ভোগান্তির স্বীকার হতে হবে, মানষিক বা শারীরিক নির্যাতনের স্বীকার হতে হবে। 

আলাল অথবা মুরাদ, যেই হোক না কেনো, নারীদের নিয়ে এই ধরনের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যকারীদের বিচার হোক। রাজনীতি করতে আসলে আগে রাজনৈতিক ভাষা শিখে আসেন। গঠনমূলক সমালোচনা করেন। এসব না করে আজেবাজে ভাষা ব্যাবহার করে নিজের দূর্বলতা প্রকাশ করা হয়। আর কর্মক্ষেত্রে যেসব পুরুষ এ ধরনের মন্তব্য করেন এবং অশোভন আচরণ করেন, তাদের প্রতিহত করার জন্য নারীদের পাশে সবাইকে থাকতে হবে। এই সব পাব্লিক ফিগাররা যখন জনসম্মুখে নারীদের নিয়ে এই ধরনের বাজে মন্তব্য করেন, একবার চিন্তা করেন নারীদের নিয়ে তার চিন্তা চেতনা কেমন? এরকম অনেক পুরুষ আছেন, যারা মুখে বাজে কথা না বললেও আচরনে বুঝিয়ে দেন।নারীদের প্রতি সহিংসতা একটি সামাজিক ব্যাধির মত চারপাশে ছড়িয়ে পড়ছে। 

কিছু মানুষ এসে এখন অমুক দলের দালান তমুক দলের দালাল বলে নিজেদের রাগ, ক্ষোভ, অভিমান ঝেড়ে যাবেন। স্পষ্টভাবে বলতে চাই, এসব করে কোনো লাভ হবে না। আমি 'বাংলাদেশের দালাল' তো, তাই।

নিজের  সোশ্যাল মিডিয়ার ওয়াল ব্যবহার করুন গঠণমূলক সমালোচনা করার জন্য। অন্যের পোস্টে যদি বাজে মন্তব্য করে নিজের উপস্থিতির জানান দিতে হয়ে,তাহলে মনে করবেন আপনি বাংলাদেশের জন্য তেমন গুরুত্বপূর্ণ কোনো ব্যাক্তি না। জনসংখ্যা কোনো কোন সময় অভিশাপ এবং কোনো কোনো সময় আশীর্বাদ। আপনাকে ঠিক করতে হবে আপনি কোনটি হবেন।

প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করলে উনার কিছুই হবে না। কিন্তু আপনারা কিছু সংখ্যক পুরুষ মানুষ এসব করে যে সমাজব্যবস্থা তৈরী করছেন, সেখানে আপনার মেয়ে সন্তান নিরাপদ কিনা একবার চিন্তা করে দেখবেন। সব রাজনৈতিক দলের উচিত, এরকম বাজে ভাষা ব্যাবহার করা পুরুষদের পদ পদবী থেকে সরিয়ে ফেলা। জনগণের কল্যাণে রাজনীতি করেন বলেই যদি বিশ্বাস করেন,তাহলে এই কাজটা সবার আগে করেন। যে সমাজ ব্যাবস্থা নারীবন্ধব, সেই দেশ অনেক দূরে যাবে। এগিয়ে যাচ্ছি, তবে আরো বহুদূরের পথ পাড়ি দিতে হবে। 

আর আপুদের কাছে অনুরোধ থাকবে, আপনাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করবেন। চুপ থাকা মানে প্রশ্রয় দেয়া।

ইশরাত ইরিনা, হেলথ এডুকেটর

Green Tea
সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়