ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৭ জুলাই ২০২২,   আষাঢ় ২৩ ১৪২৯

সোস্যাল মিডিয়া ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:০৩, ২৮ জানুয়ারি ২০২২
আপডেট: ১২:৩১, ২৮ জানুয়ারি ২০২২

সিলেটি আসাম টাইপ বাড়ি

`সিলেটি আসাম টাইপ বাড়ি`র লেখকের সাথে শুভানুধ্যায়ীরা

`সিলেটি আসাম টাইপ বাড়ি`র লেখকের সাথে শুভানুধ্যায়ীরা

সিলেটে বাড়ি নির্মাণের নিজস্ব একটি স্থাপনা শৈলির নাম আসাম স্টাইল। শত শত বছর আগে প্রকৃতির নানা প্রতিকূলতা থেকে জানমাল রক্ষা করার জন্য এই পদ্ধতির উদ্ভাবন।

আমাদের সিলেটের প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে আসাম প্যাটার্ন বাড়িগুলো দেখতেও অপূর্ব লাগতো।

বেটনের দেয়াল, চুনসুরকির দেয়াল, বাড়ির চারদিকে বারান্দা, উপরে টিনের চাল ,সামনে উঠোন। প্রায় একই রকম বাড়িঘর ছিলো শহর-গ্রাম, সবখানেই। আমার জন্ম বেড়ে উঠা এমনই এক আসাম স্টাইল বাড়িতে। আমাদের বাড়ির সামনে কল পার ছিল, শিউলিতলা ছিল, হাসনাহেনা আর বাগানবিলাসের ঝাড় ছিল। পিছনে কুয়োতলা (আমরা বলতাম ইন্দেরার পার) আর ছিল নানান ফলের গাছ। উঠন পেরিয়ে গেটটা খুললেই বিরাট খেলার মাঠ, মাঠের একপাশে বিশাল একটা কামরাঙ্গার গাছ। ডানদিকে খুখু ভাইদের বাসা, বাম দিকে ফরহাদ ভাইদের বাসা, আর সামনে বড় রাস্তার ওপাশে একসময় মিশু ভাইরা ছিলেন, তারেক ভাইরা ছিলেন। কতো আপনজনেরা ছিলেন পাড়াটাতে। প্রায় প্রতিটি বাড়ি ছিলো আসাম স্টাইল বাড়ি।

শীতের ভোরে টিনের চাল থেকে টুপটাপ শিশির ঝরার শব্দ পেতাম । শ্রাবণে অঝোর ধারায় বৃষ্টির সঙ্গীত বেজেই চলতো । এই সঙ্গীত পৃথিবীর সকল সংগীতকে ম্লান করে দেয় । শান্ত সুনিবিড় শ্যামলে ঘেরা আমাদের ভালোবাসার শহর আজ কংক্রিটের জঙ্গল ! আমি এখন সিলেটে আসলে, আত্মীয়-বন্ধুদের বাড়ী খুঁজে পেতে কষ্ট হয় । সব বদলে গেছে, কিছুই আর আগের মত নেই । নগরায়নের কারণে আসাম স্টাইল বাড়িগুলো এখন বিলুপ্ত প্রায় । ঐতিহ্য রক্ষা করে নগরায়ন কি সম্ভব ছিলো না? হয়তো এসব কথা কেউ ভাবেননি, আমরাও ভাবিনি, এখন আফসোস হচ্ছে ! এক সময় কেউ জানবেও না এমন একটি সম্বৃদ্ধ নির্মাণশৈলী আমাদের ছিল । সাকী ভাই বছরের পর বছর ধরে বাড়ি গুলোর ছবি তুলে সংগ্রহে রেখেছেন । বন্ধুমহলে এ নিয়ে তার নানান পরিকল্পনার কথা শেয়ার করেছেন । অবশেষে তাঁর স্বপ্নের বাস্তবায়ন হলো । তিনি আমাদের ঐতিহ্যকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য স্মৃতির অ্যালবামে বাঁচিয়ে রাখলেন । অভিনন্দন সাকি ভাই ! না শুধু অভিনন্দন নয় ,কৃতজ্ঞতা সহ সকলের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ । আজ অ্যালবামটি হাতে নিয়ে মুগ্ধ হয়ে দেখলাম ! চমৎকার কাজ করেছে চৈতন্য প্রকাশনী । ধন্যবাদ রাজিব, তুমি কথা রেখেছো । যারা নানানভাবে এই অ্যালবাম প্রকাশের সাথে জড়িত ছিলেন সবাইকে অভিনন্দন কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।

এলবাম টির প্রকাশনা উৎসবে অনেক প্রিয়জনের সাথে বহু বছর পর দেখা হলো। এম.এ আহাদ ভাইকে আমরা মিস করেছি।
হান্ডিবাজার লিমিটেড, কুমারপাড়া সিলেট; এই ঠিকানা থেকে আপনারা "ASSAM TYPE UNIQUE HERITAGE HOUSES in SYLHET" এলবাম টি সংগ্রহ করতে পারবেন।

লেখক ও নারী উদ্যোক্তা খাইরুন নাহার চৌধুরীর ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত

 

আইনিউজ ভিডিও 

ছেলের খোঁজে পায়ে হেঁটে নেপালে যান মা, ফিরেন ২৩ বছর পর

৮০ বছর বয়সে বৃদ্ধা নূরজাহান বেগমের মানবেতর জীবন 

বাবার হাত ধরে স্কুলে যাওয়ার পথে হঠাৎ দেয়াল চাপায় হারিয়ে গেল ছেলেটি

Green Tea
সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়