Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০৩ মার্চ ২০২৬,   ফাল্গুন ১৯ ১৪৩২

হেলাল আহমেদ

প্রকাশিত: ১৬:২৭, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩

মৌলভীবাজারে আলুর বাজারে নৈরাজ্য, নির্ধারিত দাম মানছেন না কেউ

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

সারাদেশের মতো মৌলভীবাজারেও ভোক্তা পর্যায়ে আলুর দাম নিয়ে অস্থিরতা শুরু দেখা দিয়েছে। আলুর দামের উর্ধগতি ঠেকাতে সরকার আলুর দাম নির্ধারণ করে দিলেও তা আমলে নিচ্ছেন না ব্যবসায়ী ও বিক্রেতারা। দশ থেকে পনেরো টাকা অতিরিক্ত দামে আলু বিক্রি করছেন তাঁরা। এমন অবস্থায় বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের সাধারণ মানুষ। 

রোববার সারাদিন জেলা শহরের বিভিন্ন আরত ও কাঁচাবাজার ঘুরে আলুর দামের এই তারতম্য দেখা গেছে। শহরের পশ্চিমবাজারের একাধিক দোকানীদের সাথে আলাপ করলে তাঁরা জানিয়েছেন ক্রেতাদের কাছে তাঁরা আলু বিক্রি করছেন ৪৫-৫০ টাকা দামে। ক্রেতারাও অভিযোগ করে জানান, সরকার ৩৫-৩৬ টাকা আলুর কেজি নির্ধারণ করে দিলেও তা বিক্রেতারা মানছেন না।

ভোক্তার সহকারী পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম আই নিউজকে বলেন, আমি এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক সহ সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে কথা বলেছি। নিয়মিত বাজার মনিটরিংও চলছে। ব্যবসায়ীরা আমাদের কাছে কয়েকদিন সময় চেয়েছেন। বাজারে নতুন আলু সপ্তাহ খানেকের মধ্যে চলে আসবে। পরে আলুর দাম কমে যাবে।

রণজিত দত্ত জনি নামে বাজার করতে আসা একজন ক্রেতা বলেন, আলু গত কয়েকদিন ধরেই বেশি দাম দিয়ে কিনছি। কোনো দোকানে ৪৫ টাকা কেজি আবার কোনো দোকানে ৫০ টাকা কেজি। বিক্রেতারা তাঁদের মত করে দাম রাখছে। সরকার ৩৫ টাকা দাম নির্ধারণ করে দিলেও বাস্তবে বাজারে সেই দাম কার্যকর হয় নি। 

বাজার ঘুরে দেখা যায়, পর্যাপ্ত আলু থাকার পরও চড়া দামে আলু বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। এরমধ্যে লাল রঙের আলু ক্ষেত্রবিশেষে ৫০-৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে। অন্যান্য আলু বিক্রি হচ্ছে ৪৫-৫০ টাকা দরে। কোনো কোনো দোকানে বিক্রি করা হচ্ছে চল্লিশ টাকায়। 

আলুর দাম বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে বিক্রেতারা জনান, আরত থেকেই ব্যবসায়ীরা বেশি দামে বিক্রি করছেন। বেশি দামে আলু কেনায় বিক্রি করতে হচ্ছে বেশি দামে। 

পশ্চিমবাজারের কয়েকটি আলুর আরতের মালিকদের সঙ্গে আলাপ করলে তাঁরা বলেন, আমরা আলু কিনে আনি শ্রীমঙ্গল থেকে। সেখান থেকেই বেশি দামে এখন আলু কিনে আনতে হচ্ছে। পাইকারি পর্যায়ে যেতে যেতে সেই দাম আরো বাড়ছে

এ ব্যাপারে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো: শফিকুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, মৌলভীবাজারে আলুর কোনো সংরক্ষানাগার না থাকায় জেলার আলুর বাজার মূলত শ্রীমঙ্গলকেন্দ্রীক। শ্রীমঙ্গল থেকে বিক্রেতারা বেশি দাম দিয়ে আলু কিনে আনছেন। এ বিষয়ে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসনের বৈঠক করেছেন শ্রীমঙ্গলের আলু ব্যবসায়ীরা। তাঁরা জানিয়েছেন, বর্তমানে শ্রীমঙ্গলে খাওয়ার আলুর স্বল্পতা আছে। যা আছে সেগুলো বেশিরভাগই বীজের জন্য রাখা আলু। যেকারণে তাঁরা মুন্সিগঞ্জ, বগুড়া থেকে বেশি দামে আলু কিনে আনছেন। এতে করে জেলায় ভোক্তা পর্যায়ে বাজারে আলুর দাম বেড়ে গেছে। 

ভোক্তার সহকারী পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম আই নিউজকে বলেন, আমি এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক সহ সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে কথা বলেছি। নিয়মিত বাজার মনিটরিংও চলছে। ব্যবসায়ীরা আমাদের কাছে কয়েকদিন সময় চেয়েছেন। বাজারে নতুন আলু সপ্তাহ খানেকের মধ্যে চলে আসবে। পরে আলুর দাম কমে যাবে।  

এদিকে দেশের সবথেকে বেশি আলু উৎপাদন হওয়া মুন্সিগঞ্জ, বগুড়াতে ব্যবসায়ী পর্যায়ে আলুর দাম নিয়ে নৈরাজ্য চলছে বলে জানিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। পর্যাপ্ত পরিমাণ আলু মজুদ থাকার পরও অদৃশ্য, অজানা কারণে বেশি দামে আলু বিক্রি করছেন বড় বড় আলু ব্যবসায়ীরা। যার প্রভাব পড়েছে দেশের আলুর বাজারে। 

আই নিউজ/এইচএ 

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়