Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৯ জানুয়ারি ২০২৬,   মাঘ ১৬ ১৪৩২

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৫:৫৬, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬

চা-শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টার প্রতিবাদে সমাবেশ

চা-শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টার প্রতিবাদে সমাবেশ। ছবি: আই নিউজ

চা-শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টার প্রতিবাদে সমাবেশ। ছবি: আই নিউজ

কতিপয় নামধারী চা-শ্রমিক কর্তৃক বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের ত্রিবার্ষিক নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টা এবং চা শিল্পে সৃষ্ট অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রতিবাদে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে চা-শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে শ্রীমঙ্গলে কয়েক হাজার চা-শ্রমিকের অংশগ্রহণে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিল শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশন শ্রীমঙ্গলস্থ বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের উপ-পরিচালক মহব্বত হোসেনের মাধ্যমে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) বরাবর এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসলাম উদ্দিনের মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

বিক্ষোভ মিছিল শেষে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয় হাজরা। তিনি বলেন, “ইউনিয়নের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কেবলমাত্র সক্রিয় চাঁদাদাতা সদস্যরাই ইউনিয়নের সকল কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ ও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। কিন্তু চা শিল্পে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে কিছু আইন অমান্যকারী, যারা ইউনিয়নের সদস্য নন, তারা বিভিন্ন ইন্ধন ছড়িয়ে চা-শ্রমিকদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ সৃষ্টি করছে।”

তিনি আরও বলেন, “গত ১৮ জানুয়ারি গীতা রানী কানু, জনক লাল দেশুয়ারা, বিষু গোয়ালা, ডালিম বোনার্জী ও আকাশ দোষাদসহ কয়েকজনের নেতৃত্বে কিছু উশৃঙ্খল শ্রমিক প্রধান নির্বাচন কমিশন (বাচাশ্রই) এবং শ্রীমঙ্গলস্থ বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের উপ-পরিচালকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে ইউনিয়নের গঠনতন্ত্রবিরোধী এডহক কমিটি অনুমোদনের দাবি তোলে। এই অযৌক্তিক দাবি মূলত বাচাশ্রই নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টা এবং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে চা শিল্পে বিরূপ প্রভাব ও ঐক্যবদ্ধ চা জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির ষড়যন্ত্র।”

বিজয় হাজরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান ও চা শিল্পের অগ্রগতির ধারা অক্ষুণ্ন রাখতে উক্ত নামধারী শ্রমিকদের অশৃঙ্খল কার্যকলাপ রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

শ্রীমঙ্গলস্থ বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের উপ-পরিচালক মহব্বত হোসেন বলেন, “বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়নের চাবিকাঠি হচ্ছে আমাদের চা শিল্প। আমরা কোনভাবেই চা শিল্পকে নষ্ট হতে দেবো না। আমরা সকলে চা শিল্প রক্ষায় কাজ করব, এটা হবে আমদের প্রতিজ্ঞা। আপনারা যে স্মারকলিপি দিয়েছেন, তা আমরা মহাপরিচালকের বরাবর যথাযথভাবে পৌঁছে দেব এবং আপনাদের দাবিগুলো মৌখিকভাবেও তুলে ধরব। দেশ এখন গণতন্ত্রের পথে, সামনে নির্বাচন। আমরা দেশকে ভালোবাসি, দেশোর উন্নয়নকে ভালোবাসি। এসময় কোন অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে, এটা আমি আশা করি না। স্মারকলিপি আমরা গ্রহন, ও সম্মান জানালাম।”

এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি পংকজ এ কন্দ, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নিপেন পাল, সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয় হাজরা, অর্থ সম্পাদক পরেশ কালিন্দী, কার্যকরী সভাপতি বৈশিষ্ঠ তাঁতী, সহ সভাপতি জেসমিন আক্তার, সহ সম্পাদক রেখা বাক্তি, বালিশিরা ভ্যালীর সাংগঠনিক কর্ণ তাঁতী, সহ সভাপতি সবিতা গোয়ালা, মনু ধলাই ভ্যালীর সম্পাদক নির্মল পাইনকা প্রমুখ।

ইএন/এসএইচএ

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়