ঢাকা, শুক্রবার   ১৮ জুন ২০২১,   আষাঢ় ৪ ১৪২৮

রাকিবুর রহমান

প্রকাশিত: ২২:৩১, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১
আপডেট: ১৯:০৩, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১

ফিরে দেখা সৈয়দ আবুল মকসুদের জীবনী

সৈয়দ আবুল মকসুদ

সৈয়দ আবুল মকসুদ

না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন বিশিষ্ট কলামিস্ট, গবেষক, প্রাবন্ধিক, সাংবাদিক ও লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।

প্রাথমিক জীবন

সৈয়দ আবুল মকসুদের জন্ম ১৯৪৬ সালের ২৩ অক্টোবর মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার এলাচিপুর গ্রামে। তার বাবার নাম সৈয়দ আবুল মাহমুদ ও মায়ের নাম সালেহা বেগম। জন্মের দুই বছর পর ১৯৪৮ সালের ২০ নভেম্বর মাকে হারান তিনি। মায়ের মৃত্যুর পর তাকে লালনপালন করেন বিমাতা বেগম রোকেয়া আখতার। ১৯৮০ সালে তিনিও মৃত্যুবরণ করেন।

শিক্ষাজীবন

সৈয়দ আবুল মকসুদের শিক্ষাজীবনের হাতেখড়ি হয় তাদের বাড়ির নাপিত লোকনাথ শীলের কাছে। তিনি তাকে ‘বর্ণবোধ’ ‘আদর্শলিপি’ পড়াতেন। পরে ঝিটকা আনন্দমোহন হাই স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হন আবুল মকসুদ। পরবর্তীতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেন।

কর্মজীবন

১৯৬৪ সালে এম আনিসুজ্জামান সম্পাদিত ‘সাপ্তাহিক নবযুগ’ পত্রিকায় সাংবাদিকতার মধ্য দিয়ে শুরু হয় আবুল মকসুদের কর্মজীবন। এরপর তিনি কিছুদিন ‘সাপ্তাহিক জনতা’ পত্রিকায় কাজ করেন। পরে ১৯৭১ সালে যোগ দেন বাংলাদেশ বার্তা সংস্থায়। সেখানে দীর্ঘ সময় কাজ করার পর ২০০৮ সালে সংস্থাটির সম্পাদকীয় বিভাগ থেকে বিদায় নেন তিনি। বর্তমানে দৈনিক প্রথম আলোর একজন নিয়মিত কলামিস্ট ছিলেন আবুল মকসুদ। পত্রিকাটিতে ‘সহজিয়া কড়চা’ এবং ‘বাঘা তেঁতুল’ শিরোনামে সমাজ, রাজনীতি, সাহিত্য-সংস্কৃতি নিয়ে কলাম লিখতেন তিনি।

সাহিত্যিক জীবন

ষাটের দশকে কবিতা, গল্প ও প্রবন্ধ দিয়ে সাহিত্যচর্চা শুরু করেন সৈয়দ আবুল মকসুদ। সে সময় তিনি বিভিন্ন পত্রিকায় লিখতেন। ১৯৮১ সালে তার প্রথম কবিতার বই ‘বিকেলবেলা’ প্রকাশিত হয়। বাংলা সাহিত্যের ক্ল্যাসিকধর্মী গবেষকদের মধ্যে আবুল মকসুদ ছিলেন অন্যতম। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী, বুদ্ধদেব বসু, মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহসহ প্রখ্যাত অনেক সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদদের জীবনী ও কর্ম নিয়ে গবেষণা করেন।

মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীকে নিয়ে তার লেখা ‘মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর জীবন, কর্মকাণ্ড, রাজনীতি ও দর্শন’ ১৯৮৬ সালে এবং ‘ভাসানী কাহিনী’ ২০১৩ সালে প্রকাশিত হয়। এছাড়া সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহকে নিয়ে লেখা ‘সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর জীবন ও সাহিত্য’ ২০১১ সালে ও ‘স্মৃতিতে ওয়ালীউল্লাহ’ ২০১৪ সালে প্রকাশিত হয়।

মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ও সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ ছাড়াও বিভিন্ন বিখ্যাত সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদদের জীবনী ও কর্ম নিয়ে গবেষণামূলক প্রবন্ধ লিখেন আবুল মকসুদ। পাশাপাশি করেন কাব্যচর্চাও। তার প্রবন্ধসমূহে দেশের রাজনীতি, সমাজ, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। আবুল মকসুদের রচিত বইয়ের সংখ্যা চল্লিশের ওপর। বাংলা সাহিত্যে সামগ্রিক অবদানের জন্য ১৯৯৫ সালে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।

আইনিউজ/আরআর

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়