Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১২ মার্চ ২০২৬,   ফাল্গুন ২৭ ১৪৩২

হেলাল আহমেদ

প্রকাশিত: ১৮:৩৬, ৫ অক্টোবর ২০২৩
আপডেট: ২০:১৯, ৫ অক্টোবর ২০২৩

বাংলাদেশে বন্যা হওয়ার সম্ভাবনা 

বাংলাদেশে বিগত বন্যায় পানিবন্দি একটি গৃহ। ছবি- সংগৃহীত

বাংলাদেশে বিগত বন্যায় পানিবন্দি একটি গৃহ। ছবি- সংগৃহীত

ভারতের তিস্তা বাঁধ খুলে দেয়া ক্রমশ খারাপ হচ্ছে বাংলাদশে বন্যা হওয়ার সম্ভাবনা ক্রমশ বাড়ছে। ভারতের একাধিক রাজ্যে এরিমধ্যে হানা দিয়েছে বন্যা। পানি নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পেরে তিস্তা বাঁধ খুলে দিয়েছে ভারত। ফলে প্রবলভাবে পানি ঢুকছে বাংলাদেশে। যাতে করে ৫টি জেলায় বাংলাদেশে বন্যা হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। 

বাংলাদেশের ৫টি জেলায় বন্যা পরিস্থিতি খারাপ হবে এমন পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ভারতে প্রবল বৃষ্টি ও সিকিমে বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় তিস্তা নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। যার প্রভাবে নীলফামারীসহ রংপুর বিভাগের ৫ জেলায় দেখা দিয়েছে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা। এসব জেলার নিম্নাঞ্চলের মানুষকে সতর্ক করার পাশাপাশি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। 

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গজলডোবা পয়েন্টে পানির সমতল বিগত মধ্যরাত থেকে প্রায় ২৮৫ সেন্টিমিটার বেড়েছে। সেখানে বর্তমান পানি সমতল ১১০ দশমিক ৩০ মিটার। দোমুহুনী পয়েন্টে সকাল থেকে পানি সমতল প্রায় ৮২ সেন্টিমিটার বেড়েছে। বর্তমানে ওই পয়েন্টে পানি সমতল ৮৫ দশমিক ৯৫ মিটার এবং এই বৃদ্ধি অব্যাহত আছে।এখনো কোথাও পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে না বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। 

নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে তিস্তার পানি। এতে করে বেড়ে যাচ্ছে বাংলাদেশে বন্যা হওয়ার সম্ভাবনা। ভারতীয় সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশন এর তথ্য অনুযায়ী, সিকিম অঞ্চলে আগামী ৪৮ ঘন্টা ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। ফলে, তিস্তার পানি আরও বেড়ে নীলফামারী সহ রংপুর বিভাগের পাঁচ জেলার তিস্তা-তীরবর্তী এলাকাগুলো প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। 

তিস্তার বাঁধ খুলে দেয়ায় বাংলাদেশে হু হু করে প্রবেশ করছে পানি। এতে ক্রমশ জোরালো হচ্ছে বন্যার সম্ভাবনা। ছবি- সংগৃহীত 


ফলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন থেকে সতর্কবার্তা দিয়ে বন্যা মোকাবেলায় সার্বিক প্রস্তুতির কথা জানানো হয়েছে। মাইকিং করে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের। 

এদিকে বর্তমানে মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে বঙ্গোপসাগরের উপকূলীয় এলাকা ও সমুদ্রবন্দরের উপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এজন্য বন্দরসমূহকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া বিভাগ। 

বাংলাদেশের বন্যা হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আগাম সতর্কবার্তা 
দেশের বন্যা পরিস্থিতি চলতি বছরের আগস্টে গ্রান্থাম রিসার্চ ইন্সটিটিউট অন ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট এবং সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ ইকোনমিক্সের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাংলাদেশে বন্যার সম্ভাবনার ব্যাপারে আগাম সতর্ক বার্তা জানানো হয়। ওই প্রতিবেদনে বন্যা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের দুটি গুরুতর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে থাকা বাংলাদেশ বিশ্বকে একটি অশনী সংকেত জানান দিচ্ছে বলে ওঠে এসেছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশে বন্যার সম্ভাবনা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল গ্রান্থাম রিসার্চ ইন্সটিটিউট অন ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট এবং সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ ইকোনমিক্স। 


গ্রান্থাম রিসার্চ ইন্সটিটিউট অন ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট এবং সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ ইকোনমিক্সের প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দেশের জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে। ভয়াবহ মানবিক, অর্থনৈতিক এবং পরিবেশগত সংকট অপেক্ষা করছে বাংলাদেশের সামনে। এছাড়াও, জলবায়ু পরিবর্তন ত্বরান্বিত হওয়ার সাথে সাথে বাংলাদেশের সামনে দুর্দশা আরও বেড়েই চলেছে। এই পরিস্থিতির শেকড়ও অনেক গভীরে। কারণ জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে একইসাথে বৃষ্টিপাতের অনিয়মিত ধরণ, আকস্মিক বন্যার তীব্রতা, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং হিমবাহ দ্রবীভূত হওয়ার ঘটনা ঘটছে। এই জটিল পরিস্থিতিতে বিভিন্ন ধরনের বন্যা, যেমন বর্ষা, বজ্রপাত, বৃষ্টিপাত-জনিত কারণে সৃষ্ট বন্যা এবং জোয়ারসৃষ্ট বন্যার সম্ভাবনা ক্রমাগত বাড়ছে।

বাংলাদেশে বন্যার সম্ভাবনা যে ৫ জেলায় বেশি 
এদিকে ভারত পানি ছেড়ে দেয়ায় লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা—দেশের উত্তরাঞ্চলীয় এই পাঁচ জেলার তিস্তা নদী তীরবর্তী এলাকা প্লাবিত হয়ে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ।

বুধবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এই সতর্কবার্তা জানায়। বার্তায় ভারতীয় সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনের (সিডব্লিউসি) বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ভারতের উত্তর সিকিমে তিস্তা নদীর চুংথাং ড্যাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উজানে তিস্তা নদীর পানি সমতল (উচ্চতা) দ্রুত বাড়ছে।

এখনো পানি বিপদসীমার উপরে যায় নি কোথাও 
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গজলডোবা পয়েন্টে পানির সমতল বিগত মধ্যরাত থেকে প্রায় ২৮৫ সেন্টিমিটার বেড়েছে। সেখানে বর্তমান পানি সমতল ১১০ দশমিক ৩০ মিটার। দোমুহুনী পয়েন্টে সকাল থেকে পানি সমতল প্রায় ৮২ সেন্টিমিটার বেড়েছে। বর্তমানে ওই পয়েন্টে পানি সমতল ৮৫ দশমিক ৯৫ মিটার এবং এই বৃদ্ধি অব্যাহত আছে।

ভারতীয় আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভারতের সিকিম অঞ্চলে আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস থাকায় তিস্তা নদীর বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে এবং পরবর্তীতে সর্বোচ্চ পানি সমতলের (৫২ দশমিক ৮৪ মিটার) কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। ফলে বাংলাদেশে বন্যা হওয়ার সম্ভাবনা বলা যায় এখনো অপরিবর্তিতই থাকছে। কেননা, এখনো কোথাও বিপদসীপার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে না বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। 

আই নিউজ/এইচএ 

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়