ঢাকা, সোমবার   ১৬ মে ২০২২,   জ্যৈষ্ঠ ২ ১৪২৯

শ্যামলাল গোঁসাই

প্রকাশিত: ২০:৪২, ১১ জানুয়ারি ২০২২
আপডেট: ২১:৪৬, ১১ জানুয়ারি ২০২২

ভ্রমণ কাহিনী: যা দেখিলাম মরুর দেশে

দুবাই শহরের প্রাচীন ইমারত। ছবি- শ্যামলাল গোঁসাই

দুবাই শহরের প্রাচীন ইমারত। ছবি- শ্যামলাল গোঁসাই

ঘরে প্রবেশ করেই 'শাস্ত্রীয়কাল পাজী' বলে বসে পড়লেন। আমার দিকে তাকিয়ে হাসিমুখে বললেন, 'বেঙ্গলি ভাইসাহাব, আপকো খানেকি বারেমে ত্বাকলিফ হোরাহাহে না? ইয়েঁ মুঝে পাতাহেজী! ইয়াহা আনেকি বাদ সাবলোগুকো ইয়ে ত্বাকলিফ হোতিহেঁ। কুছ দিনোমে সাব ঠিক হোযায়েগি।' আমি বললাম, সমস্যা যখন জেনেই গেছেন পাজী এবার সমাধানটাও তাহলে বলে দিন। লাকি পাজী জানালেন, পাশেই একটা পাকিস্তানি রেস্তোরাঁ আছে। এখানে অল্প দামে বিস্তর ভোজন করা যায়। রেস্তোরাঁর নাম 'পেশোয়ার রেস্টুরেন্ট।' পাঞ্জাবওয়ালা বললেন, 'লিক্কিন পাজ্বী ইয়াহা আপকোঁ বেঙ্গলকী কয়িঁভি খানা নেহি মিলেগি'।

আমাদের বঙ্গদেশের অনেকদিনের একটা পরিচয় বাক্য 'মাছে-ভাতে বাঙালি'। এই বাক্যটি প্রকাশ করা মাত্রই যে কেউ বাঙালির প্রধান খাদ্যের চিত্রটি পেয়ে যান। কিন্তু ঊষর মরুর দেশ আমিরাতে আসার পর আমার খাবারের সে বাঙালিয়ানায় যেন মরি মরি ভাব এসেছে। কারণ, চাইলেই এখানে ডাল, সবজি, শুটকি বা মাছের ঝোল দিয়ে কব্জি ডুবিয়ে খেতে পারছিনা। কোথাও কোথাও বাঙালি খাবারের হোটেলের সন্ধান মিললেও বাঙালি খাবারের স্বাদ খোঁজা বৃথা। কারণ অনেকটা সঙ্গদোষের প্রভাব। মিশরীয় আর ইরানি মশলাপাতি দিয়ে ইলিশ, রুই রাঁধলেই তো আর বাংলা খাবারের স্বাদ আনা যায় না। বাঙালি হোটেলগুলো যেন সেই অপচেষ্টাই করে যাচ্ছে।

এখানকার বাঙালি হোটেলগুলো কেবল হোটেলের নাম লেখার ক্ষেত্রেই  বাংলা অক্ষর ব্যবহার করে বাঙালি চেতনা ধরে রেখেছে। রন্ধনশৈলিতে মাছ-ভাতের বাঙালি স্বাদটি খুঁজে পাওয়া দুস্কর। তবু দেশি ভাইরা নামকাওয়াস্তে বাংলা খাবারের টানে এসব হোটেলে এসে ভীড় জমান।

ভিনদেশে গমনের একটি মজার ব্যাপার হচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন খাবার দাবারের সাথে পরিচিত হওয়া। স্থানবিশেষে খাবারের ভিন্নতাও চোখে পড়ার মতো একটি বিষয়। ভোজনরসিকদের কাছে এটি গুরুত্বপূর্ণও বটে। সাধারণত দুবাই যারা প্রবাস করতে আসেন তারা এসেই দেশীয় খাবারের জন্য শুরুতেই খোঁজ করেন দেশীয় কোন রেস্তোরাঁর। এটি যে নিজ দেশের খাবারের টানে তা বুঝি। কিন্তু এতে করে প্রবাসযাত্রার ষোলকলা পূর্ণ হয়না বলে আমার মনে হয়।

কিছুদিন আগে চালের বিষয়ে অনভিজ্ঞ আমি ভুল করে ভুল চাল বেছে কিনে ফেলেছিলাম। বাজার করতে গিয়েছিলাম আমার হায়েদ্রাবাদি বন্ধু ভগত সিং'কে নিয়ে। সাথে ওর একজন পাঞ্জাবওয়ালা বন্ধু। চাল কিনে ভুলটা যে করেছি সেটা বুঝতে পারি যখন এক ঘন্টা হাড়ির তলায় আগুন জ্বালিয়েও সেই চালকে ফুটাতে পারিনি তখন। চালের হাল দেখে মনে হচ্ছিলো এ কোন চাল নয়, সফেদ পাথরের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দানা। ভাবখানাও এমন যেন ডেকে ডেকে বলছে:

হাড়ির তলা যতোই পুড়াও আমি তো ভাই ফুটবো না

ভিনদেশীরে তোর ওই মুখে আমার স্বোয়াদ জুটবে না।

তবু দেড় ঘন্টা যুদ্ধ করে এই চালকে একটা ব্যবস্থা করে কোনোরকম জাবর কেটে দ্বিতীয়বার না খাওয়ার তওবা করি। কেননা, এটি আবার খেলে লাজিম আমার সমস্যা হবে বুঝতে পারছিলাম। 

যাইহোক, যেহেতু এ চাল খাওয়া যাবে না আর রান্নাতেও আমার সমস্যা হচ্ছে তাই রাতের খাবারের জন্য কী করা যায় তাই নিয়ে ঘরে ভগত সিংহের সাথে আলাপ হচ্ছিলো। এমন সময় ঘরে প্রবেশ করলেন আমার নতুন পাঞ্জাবী বন্ধু লক্ষিন্দর সিং। আমরা তাকে ডাকি লাকি পাজী বলে ডাকি। ওর পুরো নাম যদিও লক্ষিন্দর সিং। ভগত এবং লক্ষিন্দর ভারতের দুই প্রদেশের, দুই ধর্মের হলেও এদের দুজনারই নামের শেষে সিং কেন এ প্রশ্ন আমায় বেশ ভাবিয়েছে। যাইহোক, জাতে শিখ লক্ষিন্দরের মুখে সর্বদা হাসি আর খুশির আতর লেগে থাকে। কোথায় যেন শুনেছিলাম শিখরা বেজার মুখের আদমি পছন্দ করেন না। একে দেখেও তাই মনে হয়। ঘরে প্রবেশ করেই 'শাস্ত্রীয়কাল পাজী' বলে বসে পড়লেন। আমার দিকে তাকিয়ে হাসিমুখে বললেন, 'বেঙ্গলি ভাইসাহাব, আপকো খানেকি বারেমে ত্বাকলিফ হোরাহাহে না? ইয়েঁ মুঝে পাতাহেজী! ইয়াহা আনেকি বাদ সাবলোগুকো ইয়ে ত্বাকলিফ হোতিহেঁ। কুছ দিনোমে সাব ঠিক হোযায়েগি।' আমি বললাম, সমস্যা যখন জেনেই গেছেন পাজী এবার সমাধানটাও তাহলে বলে দিন। লাকি পাজী জানালেন, পাশেই একটা পাকিস্তানি রেস্তোরাঁ আছে। এখানে অল্প দামে বিস্তর ভোজন করা যায়। রেস্তোরাঁর নাম 'পেশোয়ার রেস্টুরেন্ট।' পাঞ্জাবওয়ালা বললেন, 'লিক্কিন পাজ্বী ইয়াহা আপকোঁ বেঙ্গলকী কয়িঁভি খানা নেহি মিলেগি'। আমি 'উসকা কয়িঁ জরুরাত নেহি' বলে ভগত সিংহকে রেখে  হাঁটা দিলাম রেস্তোরাঁয় উদ্দেশ্যে। ভগতকেও সাথে যেতে বললাম। সে খাওয়ার পর্ব শেষ করে ফেলেছে বলায় আর জোরাজোরি করিনি। কারণ, পয়সারও একটা ব্যাপার আছে। এমনিতেই এখানে এসে বেছে বেছে কিনে কিনে খাবার খেয়ে আর অনভিজ্ঞের মতো বাজার সদাই করে এরইমধ্যে অনেক টাকা খসিয়ে ফেলেছি। তাই একবার বলার পর ভগত না বলায় দ্বিতীয়বার আর বলিনি। সোজা চললাম পেশোয়ার রেস্টুরেন্টে। উদ্দেশ্য পেটপূজো।

রেস্তোরাঁর সীমানায় ঢুকে দেখলাম বাইরে চেয়ার টেবিল মাত্র দুই সারি, বেশিরভাগ জায়গাতেই দস্তরখানা বিছিয়ে খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আমাদের দেশে দস্তরখানা বিছিয়ে খাওয়াখাদ্যের তেমন প্রচলন না থাকলেও অন্যান্য মুসলিম দেশগুলিতে ব্যাপারটি এখনো দেখা যায়। পাকিস্তানেও এই দৃশ্য হরহামেশাই চোখে পড়ে। প্রায় সব পাকিস্তানি রেস্তোরাঁয় এভাবে দস্তরখানা থাকে।

রেস্তোরাঁটি দেখে মনে হলো যেন পাকিস্তান ভূমির সকল ঐতিহ্যের প্রদর্শনী যেন চলছে। ঝুলন্ত স্পিকার থেকে মৃদুস্বরে অচেনা শিল্পীর গজলের আওয়াজ এসে কানে লাগলো। বেশ পরিপাটি করে ভেতর সাজানো। এই পরিবেশে কেউ একপাশে খাবার খাওয়ার পর তামাকের নলে বুঁদ হয়ে আছে  তো অন্যপাশে আরেকদল রুটি চিবোতে চিবোতে গল্পগুজবে ব্যস্ত। তামাক পাকিস্তানি সংস্কৃতিতে না থাকলেও এখানে এসে দেখলাম অনেক পাকিস্তানিই তামাক টানেন। আর এই সমস্ত  ব্যাপারগুলো রেস্তোরাঁর ভাবখানাও আকর্ষণীয় করে তোলেছে। তবে কেউ কোন নোংরা ফেলছে না। আমাদের দেশে যদিও হোটেল-রেস্তোরাঁর চিত্রটি উলটো। ওখানে খাবার টেবিলে মাছি ভনভনাবন গান শুনালেও এখানে এসবের কিছুই নেই। বরং পরিস্কার, ছিমছাম, গল্পগুজবে সরব একটি রেস্তোরাঁ। দেখেই আমার মনে ধরলো। খাওয়ার জন্য এহেন জায়গাই তো শ্রেয়।

মূল রেস্তোরাঁর বাইরে দস্তরখানার ব্যবস্থা। এখানে যারা খেতে আসেন বেশিরভাগই পাকিস্তানি নাগরিক। তবে এদের মধ্যে কেউ কেউ ভারতীয় মুসলিমও আছেন। পোশাক পরিচ্ছদ দেখে এখানে আসা ভারতীয় মুসলিম আর পাকিস্তানি মুসলিমদের আলাদাভাবে শনাক্ত করার জোঁ নেই। কেননা, তারা প্রায় একইভাবে পাঞ্জাবি-সালওয়ার পড়েন। কিন্তু আলাদাভাবে চেনার উপায় এদের মুখের ভাষা। ভারতীয় মুসলিম ব্যবহার করেন হিন্দি। অন্যদিকে পাকিস্তানিরা বলেন উর্দুঘেঁষা হিন্দিতে। এ থেকেই এই দুই প্রতিপক্ষকে আলাদা করে চেনা যায়। অন্যান্যরাও আসেন কিন্তু অল্পস্বল্প। অন্য যারা আসেন তারা আমার মতোই। হয় বিপাকে পড়ে নাহয় ভিন্ন খাবারের স্বাদ চাকবেন এই আশায়।

রেস্তোরাঁর এক কোণায় কয়েকজন কাবুলি পাঞ্জাবি পড়া যুবক আমার দিকে কী মনে করে যেন তাকিয়েছিলো। যদিও তাকানোর মতো বিশেষ কিছুই আমার কাছে নেই। তাও আমি হাত তোলে দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই শুনলাম বলছে, 'কাইফা হালেক।  আসলে দুবাই এলে এই সাধারণ প্রশ্নটা অনেকেই করে থাকেন। অর্থাৎ তারা জানতে চাচ্ছেন, 'কেমন আছেন বা আপনার কী হালছাল?' চেয়ে দেখলাম এই যুবকদের চোখে সুরমা লাগানো আর চেহারার খানিকটা লাল হয়ে আছে। দেখলেই বুঝা যায় এগুলো মরুভূমির গরমের প্রভাব। এরা গরম বালুর উপরে উঠ চড়িয়ে বেড়ায়। সেজন্য গরমে পুড়ে চেহারা খানিকটা লাল হয়ে গেছে।

ভাঙা ভাঙা হিন্দি আর ইংরেজিতে আলাপসালাপ করতে করতে জানলাম, তারা সবাই সন্ধ্যা হলে এখানে রেস্তোরাঁয় এসে জোট বাধেন। এ বেলার বাইরে আর কারো সাথে কারো তেমন একটা দেখা হয়না। রাতের খাবারটা তাই জাতিভাইরা একসাথে বসে গল্পগুজব করতে করতে খান।

পাকিস্তানি ও কাবুলিরা খাবারের ক্ষেত্রে খাওয়ার ইসলামি আদবটি দেখলাম খুব ভালোভাবে মানেন। দস্তরখানায় বসে একটি বড় থালায় পনেরো-বিশটি করে রুটি নিয়ে তবলিগী ভঙ্গিমায় খানা খাওয়ার এ দৃশ্য আমাদের বঙ্গদেশে তেমন একটা দেখা যায় না। খেতে খেতেই দুনিয়াবি সব গল্পগুজবে মেতে উঠেন তারা। কেননা, বেশিরভাগ সময় মরুভূমিতে কাজ করেই কেটে যায়। আর সারাদিনে সবাইকে এই একটা সময় এক জায়গায় পাওয়া যায় বলে রুটি আর উষ্ট মাংস চিবোতে চিবোতে তারা এ সময়টা নিজেদের মতো করে কাটান। ভিনদেশীদের কাছে এও এক দেখার দৃশ্য বটে। আমাকেও তাদের সাথে যোগ দিতে বললেন। আমি শুকরিয়া বলে জানালাম আমি ইতিমধ্যে খাবারের 'অর্ডার' দিয়ে ফেলেছি। অন্যদিন বসবো বলে নিজের জায়গায় ফিরে আসি।

শুষ্ক, কঠিন আর মরু অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ খাবার সম্ভবত রুটি। এই রুটি আমাদের দেশের রুটির চেয়ে আকারে বড় আর তুলতুলে। তেলে ভাজা হয়না বিধায় স্বাদেরও তফাত আছে। কখনো কোথাও রুটি খাওয়ার প্রতিযোগিতা হলে এই পাকিস্তানি ও কাবুলি ভাইদের হারানো যেকারো পক্ষে দুঃসাধ্য হবে। অনেক বাঙালীই এসব রুটি এক-দেড়টার বা ঊর্ধ্বে দুইটার বেশি খেতে পারেন না। কিন্তু এরা একেকজন এসব মস্ত আকারের ছয়টি-সাতটি কেউ বাজি ধরে দশটি রুটিও অনায়াসে সাবাড় করে দিতে পারেন! এটা গালগপ্প নয় যারা পাকিস্তানি বা কাবুলিওয়ালাদের সাথে মিশেছেন তারা জানেন এদের রুটির রুচির খবর।

এরইমধ্যে আমার খাবারটিও চলে এলো। আমি দস্তরখানায় না বসে একটি টেবিলই বেছে নিয়েছিলাম। দেখলাম পাকিস্তানি বেয়ারাটি একটি তামার থালায় আলু, গোয়াবা মিশিয়ে পেশোয়ারি ঘরানায় তৈরি ডাল আর একটা ঝুরিতে করে দুটি রুটি দিয়ে গেছে। আগেই বলেছি এ ধরনের বড় রুটি দুটো খাওয়া দুস্কর। তাই আমি ওকে ডেকে আমার সদ্য শেখা হিন্দি আউড়িয়ে বললাম, 'ভাইসাহাব মে পাকিস্তানি নেহিঁহো, মেরে লিয়ে এক রুটিহি কাফিহ্যাঁ'। বেয়ারাটি তরুণ কী বুঝলো কে জানে হেসে হেসে একটা রুটি উঠিয়ে নিয়ে গেলো। দেখলাম একটুপর একটা ডিসপোজাল কাপে করে সাদা পানীয় জাতের কিছু একটা নিয়ে এসেছে। এটা কী জিজ্ঞেস করলে বললো, 'ইয়েসাব খানেকি বাদ ইয়েঁভি পিলেনা ভাইসাহাব। পেশোয়ারি ডেজার্ট, লাজিম আপকো বুরা নেহি লাগেগা।' আমি শুকরিয়া বলে, ভোজনলীলায় মত্ত হলাম। কারণ পেটে ক্ষুধার ঠাকুর ততোক্ষণে চটে গিয়েছেন।

খাবারের স্বাদ আমার জন্য একেবারেই নতুন, কিন্তু এই হিশেবে মন্দ নয় বরং ভালোই। যদিও তরকারিতে মশলাপাতি এরা একটু বেশিই ব্যবহার করে। আর রুটির স্বাদও আমাদের দেশীয় রুটি থেকে আলাদা। এখানে এসে বেশ কয়েকদিন রুটি খেয়েছি। রুটির স্বাদ এমন যে শুধুমাত্র চা'য়ে ভিজিয়েই এক-দুইটা রুটি পেটে চালান করে দেয়া যায়। এখানে যেসব বাঙালিরা অল্প মাইনের কাজ করেন তারাও এসব রুটি খেয়ে দিন গুজরান করেন। অনেকে তিনবেলাই রুটি খান। একারণেই বোধয় দুবাই প্রতিটি শ্রমিকালয়ের পাশে একটা না একটা রুটির দোকানের দেখা মিলে। যার ব্যবসাদারেরা পাকিস্তানি। একটি পাতলা বড় রুটির দাম এক দিরহাম। এগুলোর ক্রেতা বাঙালি বা অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর শ্রমিকরা। আবার মোটা বড় রুটিগুলোর দাম দেড় দিরহাম। এগুলোর ক্রেতা পাকিস্তানি এবং কাবুলিওয়ালারা।দামে কম, মানে ভালো এসব রুটিই এখানকার শ্রমিকদের প্রধান খাদ্য।  দুই দিরহাম হলে পেট ভরা যায় রুটি দিয়েই।

রেস্তোরাঁর রুটি ডালের থেকেও আমার কাছে ওই পেশোয়ারি ডেজার্টটাই ভালো লেগেছে বেশি। হালকা টক জাতীয় এই পানীয় যে আসলে খাবার হজমে সহায়তা করে এটা পরে বুঝেছি। এরকম একটি ডেজার্ট বার দুবাই এ অবস্থানকালেও খেয়েছিলাম। কিন্তু সেটি ছিলো ভারতীয় ডেজার্ট। দেখতে এবং স্বাদে প্রায় একরকম হলেও ভারতীয় ডেজার্টটিতে কালোজিরার আধিক্য ছিলো৷ পেশোয়ারি ডেজার্টে এটা নেই।

খেতে বসে এখানকার অনেককিছুই লক্ষ্য করলাম। কতো জায়গা থেকে কতো কিসিমের মানুষ এসে জোটেছে। সবাই পেটের দায়ে এসেছে। এটি ওদের মুখের দিকে, কথার বলার ভঙ্গী আর বিষয়ের দিকে খেয়াল করলেই আন্দাজ করা যায়। কিন্তু এই সন্ধ্যায় সবাই উন্মুক্ত পাখির মতো। এই সময় কারো যেন কোন দুঃখ নেই, কষ্ট নেই। এরকম রেস্তোরাঁগুলোতে এসে দস্তরখানায় গা এলিয়ে দিয়ে গল্পগুজব করতে করতে তারা আজকের দিনটির সকল কষ্ট ভুলে যান। কেননা, কাল সূরুয ওঠার আগেই আবার ছুটে যেতে হবে যারযার কর্মস্থলে। কেউ হয়তো ছুটবে মরুর জাহাজ উঠের পেছনে, কেউবা বিল্ডিং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইমারত গড়ার কাজে আবার কেউ কেউ ক্লিনিং-এ। সময়ের কাটার মতো কেবল ছুটে চলাই এ জীবনের বাস্তবতা। তাই তো এমন সন্ধ্যায় সবাই সবকিছু ভুলে গিয়ে নতুন উদ্যমে কাজে ফিরে যায়। আবার হয়তো সবাই সবকিছু ভুলতে পারেন না। কেননা, খাবার শেষে যখন টাকা পরিশোধ করে উঠে আসছিলাম তখন রেস্তোরাঁর অন্য কোণায় একজন প্রবাসীকে কাঁদতে দেখলাম!

 শ্যামলাল গোঁসাই, ফিচার প্রতিবেদক, আইনিউজ

আই নিউজ ভিডিও

ঘুরে আসুন মৌলভীবাজারের পাথারিয়া পাহাড়

হাইল হাওরের বাইক্কাবিলে পর্যটক আর পদ্মটুনার ভিডিও ভাইরাল

জলময়ূরের সাথে একদিন | বাইক্কা বিল | ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফি

বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক উৎসবে মুগ্ধ বিদেশিনী

যেসব দেশে যেতে বাংলাদেশিদের লাগবে না ভিসা

সাজেক: কখন-কীভাবে যাবেন, কী করবেন? জেনে নিন বিস্তারিত

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়