প্রকাশিত: ০৯:০৭, ১৪ আগস্ট ২০১৯
আপডেট: ০৯:০৮, ১৪ আগস্ট ২০১৯
আপডেট: ০৯:০৮, ১৪ আগস্ট ২০১৯
কাঁচা চামড়া রফতানির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি
ঢাকা: কাঁচা চামড়া রফতানির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ)। সংগঠনটি এমন সময় দাবি জানিয়েছে যখন সারাদেশে ভয়াবহভাবে নেমে গেছে চামড়ার দাম। অনেকে কোরবানির পশুর চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলে দিয়েছেন। মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীদের চোখেও পানি। এমন অবস্থায় বিদেশে কাঁচা চামড়া রফতানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে তাঁরা।
আজ বুধবার (১৪ আগস্ট) সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে সংগঠনটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিটিএ সভাপতি শাহীন আহমেদ এ দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘আগামী ২০ আগস্ট থেকে সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে ট্যানারি মালিকরা লবণযুক্ত কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করবেন। দেশের বিভিন্ন হাট থেকে পরবর্তী দুই মাস পর্যন্ত এই কাচাঁ চামড়া সংগ্রহ করা হবে। কাঁচা চামড়া রফতানির সুযোগ দেওয়া হলে দেশীয় চামড়া শিল্প হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়বে।’
সাত হাজার কোটি টাকা চামড়া শিল্পনগরীতে বিনিয়োগ করা হয়েছে এই কথা উল্লেখ করে শাহীন আহমেদ বলেন, কাঁচা চামড়া রফতানির সুযোগ দেওয়া হলে এই বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়বে। সাভারের চামড়া শিল্পনগরী কাঁচা চামড়ার অভাবে সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়বে। ফলে এ শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত বিশাল জনগোষ্ঠী বেকার হয়ে পড়বে। এতে করে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। তাই সার্বিক বিবেচনায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নেওয়া কাঁচা চামড়া রফতানির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।
শাহীন আহমেদ বলেন, ‘গত আড়াই বছরে অন্তর্জাতিক বাজারে চামড়ার দাম এক তৃতীয়াংশ কমে গেছে। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডসহ অনেক দেশ ছাগল ভেড়ার চামড়া ক্রেতার অভাবে মাটিতে পুঁতে ফেলছে। বিশ্বব্যাপী সিনথেটিক ও ফেব্রিক দ্বারা উৎপাদিত পাদুকা, ব্যাগ, মানিব্যাগ, বেল্ট ও জ্যাকেটের পণ্যের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় চামড়ার তৈরি জিনিসের চাহিদা কমে গেছে। ফলে গত ২/৩বছর ধরে ট্যানারি মালিকরা লোকসান গুনছেন। গত বছরের ৫০ শতাংশ চামড়া এখনো অবিক্রিত অবস্থায় রয়েছে।’
এক প্রশ্নের জবাবে বিটিএ সভাপতি বলেন, ট্যানারি মালিকদের সঙ্গে সিন্ডিকেটের কোনো সম্পর্ক নেই। কারণ কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করেন মৌসুমী ব্যবসায়ারা। পরে এই চামড়া বিক্রি করা হয আড়তদারদের কাছে। পরবর্তীতে আড়তদাররা ট্যানারি মালিকদের কাছে লবণযুক্ত চামড়া বিক্রি করেন।এইক্ষেত্রে ট্যানারির মালিকরা প্রতিটি বড় চামড়া দেড় হাজার টাকা করে কিনে নেন। সিন্ডিকেটের সঙ্গে এক শ্রেণির আড়তদার ও মধ্যাস্বভোগী অসাধু ব্যবসায়ীরা রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ট্যানারি মালিকরা আড়তদারের পাওনা সাড়ে তিনশ কোটি টাকা পরিশোধ করছে না বলে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শাহীন আহমেদ বলেন, ‘কথাটি সত্য নয়। নানা সমস্যার কারণে কিছু কিছু ট্যানারি মালিকা বকেয়া পরিশোধ করতে পারেনি। বকেয়া টাকার দোহাই দিয়ে মার্কেট অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আড়তদারের একটা মহল কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করেছে এবং বাজার অস্থিতিশীল করেছে। আমরা কিন্তু ঠিকই সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে চামড়া কিনবো।’
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাংকগুলো ৬০০ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে কথাটি সত্য নয়। মূলত ব্যাংকগুলো দেড়শ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে আর ৬০০ কোটি টাকা ঋণ পূর্ণতফসিল করেছে। এই টাকাগুলো বড় বড় আড়তদারদের দেওয়া হয়েছে। আর আড়তদাররা দাম কমানোর জন্য নানান ধরনের ছলচাতুরি করছে।’
আইনিউজ ডেস্ক/এইচএ/ইএন
আরও পড়ুন
জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
- কাল থেকে যেসব শাখায় পাওয়া যাবে নতুন টাকার নোট
- 'জাতীয় মুক্তি মঞ্চ' গঠনের ঘোষণা
- বেইলি রোডে আগুন : ৩ জন আটক
- এই নৌকা নূহ নবীর নৌকা: সিলেটে প্রধানমন্ত্রী
- এক বছরেই শক্তি, ক্ষিপ্রতা জৌলুস হারিয়ে 'হীরা' এখন বৃদ্ধ মৃত্যুপথযাত্রী
- ওয়াহিদ সরদার: গাছ বাঁচাতে লড়ে যাওয়া এক সৈনিক
- ভারতবর্ষে মুসলিম শাসনের ইতিকথা (প্রথম পর্ব)
- এবার ভাইরাস বিরোধী মাস্ক বানিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিলো বাংলাদেশ
- মায়েরখাবারের জন্য ভিক্ষা করছে শিশু
- ২৫ কেজি স্বর্ণ বিক্রি করল বাংলাদেশ ব্যাংক
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

























