ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৯ জুলাই ২০২০,   আষাঢ় ২৪ ১৪২৭

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭:৫২, ২৬ জুন ২০২০
আপডেট: ১৭:৫৩, ২৬ জুন ২০২০

প্রাথমিক শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বিশেষ পরিকল্পনা

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

বিশ্বব্যাপী করোনার প্রভাবে সৃষ্ট সংকটে দেশে প্রাথমিক শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সরকার বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। করোনার ব্যাপক সংক্রমণ প্রতিরোধে গত ১৭ মার্চ থেকে সারাদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এ সময়ে প্রাথমিক শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হয়।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেনের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা বাসস জানিয়েছে, সরকার করোনাকালীন সময়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ২ কোটি শিক্ষার্থীর জন্য টেলিভিশন, বেতার, মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে অনলাইনে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম চালু করেছে। অনলাইন শিক্ষাদান কার্যক্রম সবার সহযোগিতায় শতভাগ সফল হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, শিক্ষাদান পদ্ধতি সফল করতে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য ‘হ্যালো টিচার’ কর্মসূচি বেশ সাড়া জাগিয়েছে। পরীক্ষা নেয়াসহ অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমকে আরো সফল করার জন্য নতুন নতুন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

জাকির হোসেন বলেন, করোনার সময় অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম এবং পদক্ষেপ শিশুদের অনলাইন ক্লাস সম্পর্কে একটা বিশেষ অর্জন।

অনলাইনে পরীক্ষা নেয়ার কোনো পরিকল্পনা সরকারের আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগামী ৬ আগস্ট পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো অনলাইনে ক্লাস ও পরীক্ষা দুটোই নিচ্ছে। তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা বা মূল্যায়ন উঠে যাচ্ছে। ছুটির পর অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নিরক্ষরমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে ২০১৩ সালে ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি রেজিস্ট্রার প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করেন। এতে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার শিক্ষক কর্মচারির চাকরি জাতীয়করণ করা হয়। দেশে বর্তমানে সাক্ষরতার হার ৭৩ দশমিক ৫৯ শতাংশ। ২০১৯ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক পদে ১৮ হাজার ১৪৭ জনকে নিয়োগ দিয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।

এক কোটি ৪০ লাখ শিশুর উপবৃত্তির টাকা মায়েদের কাছে মোবাইলে পাঠানো হচ্ছে। যাতে প্রাথমিক শিক্ষায় শিশুরা আগ্রহী হয়ে ওঠে। স্কুল থেকে ঝরে পড়া ৪ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু ১০ লাখ শিশুর জন্য উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো ৩ হাজার ৩৩২টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে একটি বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এরইমধ্যে এক লাখ শিশু এই শিক্ষা গ্রহণ করেছে। আরো ৯ লাখ শিশুকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে বলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

শিশু কল্যাণ ট্রাস্টের আওতায় ২০৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৩১ হাজার ৮৫০ জন শিশুকে শিক্ষা দেয়া হচ্ছে। দেশের ৬৪ জেলার ২৫০টি উপজেলায় ৭৫ হাজার শিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে ৪৫ লাখ নারী-পুরুষকে সাক্ষর জ্ঞান প্রদান করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ১১৬টি উপজেলায় ২১ লাখ নারী ও পুরুষকে সাক্ষরতা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, সরকার ৪৯২টি উপজেলার প্রায় ২৭ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১৯ লাখ ৯২ হাজার ৭৮০ জন শিক্ষার্থীর মাঝে ৩২৮ কোটি ১৪ লাখ ১ হাজার ৯০০ টাকা জি টু পি পদ্ধতিতে (অর্থাৎ বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে উপবৃত্তির অর্থ সরাসরি প্রত্যেক শিক্ষার্থীর নির্ধারিত মোবাইল অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে) পাঠানো হয়েছে। চলতি জুন মাসের মধ্যে শিক্ষার্থীদের মোবাইল নম্বরে তাদের উপবৃত্তির টাকা পৌঁছে যাবে। এ সময়ে জি টু পি পদ্ধতিতে ২০১৯ সালের পিইসি এবং জেএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃত্তি প্রাপ্ত ৮৩ হাজার ৯৬৪ জন শিক্ষার্থীর মাঝে ১৭ কোটি ৩২ লাখ ৭৬ হাজার ৩৮৫ টাকা প্রদান করার সব ব্যবস্থা সম্পন্ন করা হয়েছে। এই খাতে প্রতি অর্থবছরে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে এক লাখ ৮৭ হাজার ৩৮৪ জনকে ১৮৭ কোটি টাকা বৃত্তি দেয়া হয়। বৃত্তিপ্রাপ্ত অন্যান্য শিক্ষার্থীদের বরাদ্দকৃত অর্থ পর্যায়ক্রমে অনলাইনে পাঠানো হচ্ছে। অনলাইনে বৃত্তি প্রদানের এ সেবাটি মুজিববর্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে উৎসর্গ করা হয়েছে।

সরকার দেশে সার্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণে আন্তর্জাতিকভাবে অঙ্গিকারাবদ্ধ। এ কারণেই সরকার এ খাতে অধিক হারে বরাদ্দ দিয়ে আসছে। প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে আরো সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি, ছাত্র-ছাত্রীদের ভর্তির হার বাড়ানো, ঝরে পড়া শিশুদের বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ সৃষ্টি, শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা জোরদার করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

আইনিউজ/এসবি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়