ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০২ ডিসেম্বর ২০২১,   অগ্রাহায়ণ ১৮ ১৪২৮

প্রবাস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:০৯, ২০ নভেম্বর ২০২১
আপডেট: ২০:১০, ২০ নভেম্বর ২০২১

কাতারে মারা যাচ্ছেন বাংলাদেশি নির্মাণ শ্রমিকরা, নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

প্রবাসী বাংলাদেশি নির্মাণ শ্রমিক। ফাইল ছবি।

প্রবাসী বাংলাদেশি নির্মাণ শ্রমিক। ফাইল ছবি।

সাম্প্রতিক সময়ে কাতারে বিশ্বকাপের আয়োজন উপলক্ষে বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণে অন্তত ৫০ জন নিহত এবং ৫ শতাধিক আহত হয়েছেন। নির্মাণ শ্রমিকদের একটা বড় অংশ বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিক। এছাড়াও আছেন ভারত ও নেপালের প্রবাসী শ্রমিকরা। এমন অবস্থায় প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে কাতারে।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এ বিষয়ে জানিয়েছে। 

কাতারে শ্রমিকের হতাহতের ঘটনার এই তথ্য আইএলও প্রকাশ করেছে শুক্রবার। ঘটনাগুলোর সঠিক তদন্তও করা হয়নি বলে আইএলও উল্লেখ করেছে। আইএলও কাতারে হাজার হাজার বিদেশি শ্রমিকের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে আইএলওর এ তথ্য। বিবিসির বরাতে জানা গেছে, আইএলও গত বছর কাতারে নির্মাণ কাজে বিদেশি শ্রমিকের আহত এবং নিহত হওয়ার যে পরিসংখ্যান দিয়েছে, তাতে বাংলাদেশের শ্রমিক কতজন ছিল-তার কোন পরিসংখ্যান বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি।

কাতারে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম বিষয়ক কনস্যূলার ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, কাতারে কর্মক্ষেত্রে বাংলাদেশের শ্রমিকের কোন সমস্যা হলে তা তারা সাথে সাথে কাতার কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে থাকেন। তিনি উল্লেখ করেন, তারা সমস্যা বা অভিযোগ তুলে ধরলে কাতার কর্তৃপক্ষ তাতে যথাযথ ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। বাংলাদেশ সরকারের হিসাবে বলা হচ্ছে, চার লাখের বেশি বাংলাদেশের নাগরিক কাতারে বিভিন্ন সেক্টরে কাজ করছেন। এর ৮০ শতাংশই সেখানে নির্মাণ শ্রমিক হিসাবে রয়েছেন।

বাংলাদেশের কর্মকর্তারা বলেছেন, শ্রমিকের নিরাপত্তা নিয়ে কোন অভিযোগ এলেই কাতার কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করলে তারা তা সমাধানের চেষ্টা করেছে।

২০২২সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজক কাতার। সেজন্য দেশটিতে কয়েক বছর ধরে ফুটবলের স্টেডিয়াম সহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের কাজ করছে অনেক দেশের হাজার হাজার শ্রমিক।

কাতারে বিশ্বকাপের অবকাঠামোর নির্মাণ কাজে রয়েছেন, এমন একজন বাংলাদেশি শ্রমিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, দুই বছর আগে তিনি যখন কাজে গেছেন, তখন সেখানে কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে তার বাংলাদেশি অনেক সহকর্মী আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এখন নিরাপত্তা ঝুঁকি অনেক কমেছে বলে তিনি দাবি করেন।

বাংলাদেশের একজন ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ জালাল কাতারে ভবন নির্মাণের একটি কোম্পানি পরিচালনা করেন। তিনি বলেছেন, যারা কাজ করতে যায়, তাদের নির্মাণ কাজ সম্পর্কে আগের অভিজ্ঞতা থাকে না। সে বিষয়টিই বড় ঝুঁকি তৈরি করে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি বলেন, শুধু বিশ্বকাপের জন্য অবকাঠামো নির্মাণ কাজেই দুর্ঘটনা ঘটে-তা ঠিক নয়। এখানে স্বাভাবিক নির্মাণ কাজেও দুর্ঘটনা ঘটে। কাতারে নির্মাণ কাজে শ্রমিকের নিরাপত্তায় যথেষ্ট ব্যবস্থা নেয়া হয়।

এদিকে, আইএলও বলেছে, কাতারে গত বছর বিশ্বকাপের স্টেডিয়াম সহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণে হতাহতাদের বেশির ভাগই বাংলাদেশ ভারত এবং নেপালের শ্রমিক।

অভিবাসী শ্রমিকের অধিকার নিয়ে কাজ করেন সুমাইয়া ইসলাম। তিনি জানিয়েছেন, বছর দেড়েক আগে কয়েকজন বাংলাদেশি শ্রমিক কাতারে নির্মাণ কাজ করতে গিয়ে আহত হয়ে দেশে ফিরেছেন। কিন্তু কাতার কর্তৃপক্ষ থেকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ তারা পাননি।

আইনিউজ/এসডি

অকালে মারা গেলেন পুনিথ রাজকুমার, তার অর্থে চলতো ২৬ টা অনাথ আশ্রম

প্রকৃতির সন্তান খাসি - খাসিয়া জনগোষ্ঠী

বিভাগ হচ্ছে কুমিল্লা ও ফরিদপুর, নাম হবে পদ্মা-মেঘনা

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়